Sunday, June 19, 2022

বুধ গ্রহের বিচ্যুতির ক্ষেত্রে কি নিউটনের তত্ত্ব ভুল?

বুধ গ্রহের ১০০ বছর পর বিচ্যুতি হয়। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র এটা ব্যাখ্যা করতে পারে না। বিচ্যুতিটা কেন হয়? তবে কি নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ভুল? এমন কোনো ব্যাপার নেই যে বুধ গ্রহের কোনো কিছুর ‘বিচ্যুতি’ হয়। তবে হ্যাঁ, তার অনুসূর (সূর্যের সবচেয়ে কাছের) বিন্দুর অগ্রগমন হয়। প্রতিবছরই হয়। নিউটনের সূত্র অনুসরণ করে এর সঠিক মান পাওয়া যায় না, আইনস্টাইনের তত্ত্ব এই অগ্রগমনের হারটির সঠিক তাত্ত্বিক মান দিতে সক্ষম হয়। এমনকি এ ধরনের অগ্রগমন অন্য সব গ্রহেরও হয়। তার মানে এই নয়, নিউটেনর তত্ত্ব ভুল। এটা নিউটনের তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা। ওয়াকিয়া রহমান, ৯ম শ্রেণি, ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট

Thursday, March 31, 2022

পর্যায় সারণি ও কোয়ান্টাম মেকানিকস

Quantum Physics দেড় শ বছর আগে দিমিত্রি মেন্ডেলিভ যখন পর্যায় সারণি নামের গল্প লিখতে বসলেন, তখন সে গল্পের চরিত্র ছিল ৬৩টি মৌল। দিন গড়িয়ে আবিষ্কৃত হয়েছে আরও অনেক নতুন মৌল, কলেবর বেড়েছে পর্যায় সারণির। আজকের মানুষ ল্যাবে বসে বানাতে শিখেছে সিনথেটিক মৌল। কিন্তু মৌলের ধর্ম, বিন্যাস আর বৈশিষ্ট্যের পর্যায়ক্রমিক আবর্তনে পর্যায় সারণির ধারণা বরাবরই মুগ্ধ করেছে রসায়নবিদদের। প্রথম মেন্ডেলিভ পারমাণবিক ভর অনুযায়ী পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে সাজাতে চেয়েছিলেন, ব্যাপারটা এ রকম নয়। বরং পারমাণবিক ভর, মৌলের বৈশিষ্ট্য ও ধর্ম সম্পর্কে কেমন করে ভবিষ্যদ্বাণী করে—মেন্ডেলিভ সে সম্পর্কেই ধারণা দিয়েছিলেন প্রথম। ১৮৬৯ সাল। মেন্ডেলিভ যখন প্রথম তাঁর করা পর্যায় সারণির ধারণা প্রকাশ করেন, তখনো আবিষ্কৃত হয়নি গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম বা স্ক্যান্ডিয়াম। কিন্তু মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে অবস্থান অনুযায়ী এগুলোর ভবিষ্যদ্বাণী ছিল স্পষ্ট! এরপর প্রায় দেড় শ বছর ধরে রসায়নবিদেরা পারমাণবিক ধর্ম ব্যাখ্যায় ব্যবহার করেছেন পর্যায় সারণি। পরীক্ষাগারে বড় বড় সব গবেষণায় নিয়েছেন অনুপ্রেরণা। জে জে থমসন থেকে আরউইন শ্রোডিঙ্গার—পরমাণুর গঠন কিংবা কোয়ান্টাম মেকানিকস—মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণি ব্যবহৃত হয়েছে সর্বত্র। মেন্ডেলিভ জানতেন না মৌলগুলোর ধর্ম কেমন করে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। বিজ্ঞানীদের বদান্যতায় এখন আমরা জানি, মৌলগুলোর ধর্মের ক্রম আবর্তনের নেপথ্যে মূল ভূমিকায় পরমাণুর গঠন। বিশ শতকের শুরুতে পদার্থবিদ চার্লস গ্লোভার বার্কলে এবং আর্নস্ট রাদারফোর্ড খেয়াল করলেন, পরমাণুর কেন্দ্রে যে চার্জ, তা এর পারমাণবিক ভরের প্রায় অর্ধেক। ১৯১১ সালে পেশায় অর্থনীতিবিদ এক ডাচ বিজ্ঞানী এন্তোনিয়াস ভ্যান ডার ব্রুকের এক ব্যাখ্যা দাঁড় করালেন। তিনি ‘আলফন’ নামে একক ধনাত্মক চার্জবিশিষ্ট একটা মৌলিক কণিকার ধারণা দিলেন। তা ভরের দিক থেকে হিলিয়ামের অর্ধেক। ব্রুক বললেন, হাউড্রোজেন ছাড়া বাকি সব মৌল একাধিক আলফনের সমন্বয়েই তৈরি। ভ্যানডার ব্রুকের আলফন কণার অস্তিত্ব আদতে কোথাও খুঁজে পাওয়া না গেলেও এটি জন্ম দিয়েছিল পারমাণবিক সংখ্যা ধারণাটির। কোনো পরমাণুর কেন্দ্র নিউক্লিয়াসে ঠিক যতগুলো প্রোটন থাকে, সেটিই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। পর্যায় সারণিতে মৌলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে এবার ব্যবহার শুরু হলো পারমাণবিক সংখ্যা। পারমাণবিক ভর পর্যায় সারণিতে বিদ্যমান যেসব সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, পারমাণবিক সংখ্যা এসে সেসব সমাধান করল সহজেই। পদার্থবিদ হেনরি মোসলে ১৯১৩ সালের দিকে এক্স–রে বর্ণালিমীতি ব্যবহার করে পর্যায় সারণির ভিত্তি হিসেবে পারমাণবিক সংখ্যাকেই বসালেন। ১৯২০ সালের দিকে এসে কোয়ান্টাম মেকানিকস আমাদের চিন্তার জগৎকে নতুন করে ভাবাতে শুরু করেছিল। পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ইলেকট্রনের অবস্থান ও ঘূর্ণনের ধারণাকেই বদলে দিল কোয়ান্টাম মেকানিকস। হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি বলে, একটা ইলেকট্রনের অবস্থান ও গতিবেগ একই সঙ্গে একই সময়ে বের করা অসম্ভব। তাই যে মুহূর্তে আমরা ইলেকট্রনের অবস্থান জানব, ঠিক সে মুহূর্তে তার গতিবেগ জানতে পারব না। আবার যে মুহূর্তে গতিবেগ জানব, ঠিক সে মুহূর্তে তার অবস্থান জানা অনিশ্চিত। হাইজেনবার্গের এ অনিশ্চয়তা নীতির আরেকটি বিষয়কে বাতিল করে দেয়। সেটা নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথ ধরে ইলেকট্রনের অবস্থান নির্ণয়ের মডেল। একটা নির্দিষ্ট সময়ে নিউক্লিয়াসের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ইলেকট্রনের অবস্থান নিশ্চিত করে বলা না গেলেও মোটামুটি সম্ভাবনা হিসাব করা যায়। নিউক্লিয়াসের চারপাশে যে ত্রিমাত্রিক জায়গাজুড়ে ইলেকট্রন পাওয়ার সম্ভাবনা, মোটামুটি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ সেটাকে বলা হয় পারমাণবিক অরবিটাল। শক্তি ও আকার অনুযায়ী এ অরবিটালগুলোকে ভাগ করা হয় s, p, d, f এসব নামে। ইলেকট্রনের অবস্থান নির্ণয়ে কোয়ান্টাম মেকানিকস পরমাণুর গঠনকে নতুন করে ব্যাখ্যা করল। শুধু তা–ই নয়, পর্যায় সারণির ভিত্তি বা মৌলগুলোর ধর্মের ক্রম আবর্তনের পালেও নতুন হাওয়া যোগ করে। প্রতি অরবিটালে ঠিক কতটি ইলেকট্রন থাকতে পারে, কোয়ান্টাম মেকানিকস সেটা নির্ধারণ করে দেয়। যেমন হাইড্রোজেনের একটি ইলেকট্রনের অবস্থান 1s অরবিটালে, হিলিয়ামের দুইটা ইলেকট্রনেরও তা–ই। আবার তিন ইলেকট্রনবিশিষ্ট মৌল লিথিয়ামের সর্বশেষ ইলেকট্রনটি যায় 2s অরবিটালে। ইলেকট্রন কোন অরবিটালে এসে আগে ঢুকবে, তার ক্রম পর্যায় সারণির প্রথম তিন পর্যায়ের মৌলের ক্ষেত্রে খুব পরিষ্কার ও স্পষ্ট। কিন্তু সমস্যা বাধে চতুর্থ পর্যায়ে এসে। পটাশিয়াম (পারমাণবিক সংখ্যা 19) ও ক্যালসিয়ামের (পারমাণবিক সংখ্যা 20) সর্বশেষ ইলেকট্রন 3d–তে না বসে 4s অরবিটালে বসে। স্ক্যান্ডিয়াম (পারমাণবিক সংখ্যা 21) থেকে শুরু করে বাকি অবস্থান্তর মৌলগুলোর সর্বশেষ ইলেকট্রন 4p–তে না বসে 3d–তে বসে। 3d–এর আগে 4s কিংবা 5s–এর আগে 4p অরবিটালে ইলেকট্রন ঢোকার এ নিয়ম নির্ধারণ এই নীতিকে বলে আউফবাউ নীতি (পদার্থবিদ আরউইন ম্যাডেলাংয়ের নাম অনুযায়ী একে আবার ম্যাডেলাং নীতিও বলা হয়)। আউফবাউ নীতি মেনে নিলে ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করা যায় সহজেই। কিন্তু আউফবাউ নামের নীতিটি আসলে কোয়ান্টাম মেকানিকস বা পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্ব থেকে আসা কোনো নীতি নয়। ১৯৬৯ সালে পর্যায় সারণির এক শ বছর পূর্তিতে রসায়নবিদেরা এটিকে থিওরেটিক্যাল রসায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। ৫০ বছর পার করে এসে ২০১৯ সালে এটিকে এখনো একটি তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হয়! মজার ব্যাপার হলো, পর্যায় সারণিতে এমন ২০টি মৌল আছে, যারা আউফবাউ নীতি মানে না। যেমন ধরা যাক, ক্রোমিয়াম (পারমাণবিক সংখ্যা 24)। আউফবাউ নীতি অনুযায়ী এর 3d অরবিটালে 4টি ও 4s অরবিটালে 2টি ইলেকট্রন থাকার কথা। কিন্তু ক্রোমিয়ামের বর্ণালি ডেটা পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া যায় অন্য কিছু। আদতে এর 3d–তে 5টি ও 4s অরবিটালে ইলেকট্রনের দেখা মেলে 1টি। ক্রোমিয়াম ছাড়াও এ ধরনের ব্যাপার লক্ষ করা যায় কপার, নিওবিয়াম, রুথেনিয়ামসহ আরও ডজনখানেক মৌলের ক্ষেত্রে। কোয়ান্টাম মেকানিকস আউফবাউ নীতিকে ব্যাখ্যা করতে পারছে না আবার আউফবাউ নীতি দিয়ে সব মৌলের ইলেকট্রন নীতিও ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ২০০৬ সালে এ সমস্যার একটি সমাধান দিতে চেষ্টা করলেন তাত্ত্বিক রসায়নবিদ ইউগ্যান শোয়ার্জ। প্রোবাবিলিটি থিওরি বলে, একটি পরমাণুর পক্ষে একই সময়ে একাধিক ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করা সম্ভব। কাজেই একটি নির্দিষ্ট শক্তিতে একটি ইলেকট্রনকে একের বেশি অরবিটালে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে প্রোবাবিলিটি থিওরি ও কোয়ান্টাম মেকানিকস। পরমাণুর স্থায়ী ইলেকট্রন বিন্যাস খুঁজে পেতে এসব সম্ভাবনাকেই এক করতে হয়। শোয়ার্জ ঠিক তা–ই করলেন এবং কোয়ান্টাম ও স্ট্যাটিসটিক্যাল মেকানিকসের প্রোবালিটি থিওরিকে কাজে লাগিয়ে বেশির ভাগ মৌলের ক্ষেত্রে ইলেকট্রন বিন্যাস ব্যাখ্যা করতে পারলেন। সেগুলো আবার আউফবাউ নীতিকেও মেনে চলে। পরমাণুর অরবিটালে ইলেকট্রন প্রবেশের ক্ষেত্রে আউফবাউ নীতি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য। তবে পরমাণু ইলেকট্রন ছেড়ে দিয়ে আয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে এই নীতি একদমই উল্টো। যেমন অবস্থান্তর মৌল স্ক্যান্ডিয়ামের ক্ষেত্রে এর সর্বশেষ ইলেকট্রনটি 3d–তে বসে। কিন্তু ইলেকট্রন ছেড়ে দিয়ে আয়ন হওয়ার সময় স্ক্যান্ডিয়াম সবার আগে ইলেকট্রন ছাড়ে 4s থেকে। শোয়ার্জ ও তার দল ২০১০ সালে এই সমস্যার আলাদা একটি সমাধান দেন। সেটা কোয়ান্টাম বলবিদ্যা ব্যবহার করেই। পরীক্ষাগারে তৈরি করা বর্ণালি ডেটা ব্যবহার করে শোয়ার্জ দেখালেন স্ক্যান্ডিয়ামের সর্বশেষ ইলেকট্রনটি যে কেবল 4s অরবিটালে ঢুকে করে তা নয়, প্রতিটা মৌলের পারমাণবিক অরবিটালের শক্তিক্রমও নিজস্ব! যেমন স্ক্যান্ডিয়ামের ক্ষেত্রে 4s–এর চেয়ে 3d অরবিটাল কম শক্তির! ইউগ্যান শোয়ার্জের এ গবেষণালব্ধ ফলাফল পর্যায় সারণির মৌলগুলোর ধর্মের পর্যায়ক্রমিক আবর্তনে ইলেকট্রনের বিন্যাসের যে ভিত্তি, তার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। সেই সঙ্গে কোয়ান্টাম বলবিদ্যা ব্যবহার করে প্রতিটা মৌলের স্বকীয় কাঠামো ও শক্তির বিন্যাস খুঁজে বের করায় নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে। তবে আশার কথা, পর্যায় সারণিতে মৌলগুলোর অবস্থান এবং ইলেকট্রন বিন্যাস ব্যাখ্যায় আউফবাউ বা ম্যাডেলাং নীতি এখনো গ্রহণযোগ্য বলেই মেনে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নয়তো আমাদের পাঠ্যবইয়ের পর্যায় সারণির ইলেকট্রন বিন্যাসের ব্যাখ্যা পাল্টে দিয়ে নতুন করে লিখতে হতো! মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণি আজ দেড় শ বছর পার করতে চলেছে। কিন্তু এর সব রহস্যের খোলস অবমুক্ত করা সম্ভব হয়নি এখনো। পদার্থবিদ, রসায়নবিদ ও বিজ্ঞানের দার্শনিকদের কাছে পর্যায় সারণি এখনো এক মায়াপুরী। নিত্যনতুন তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণা এর প্রজ্জ্বলিত সলতেটাই পাল্টে যাচ্ছে কেবল। লেখক: শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র: নেচার, উইকিপিডিয়া

Monday, March 28, 2022

ফিজিক্স পড়ে কি হবে! 🤔

ফিজিক্স পড়ে কি হবে! 🤔 এই মুহুর্তে যদি নবম কিংবা দশম শ্রেনীর কোন ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বিজ্ঞান বিভাগের সবচেয়ে কঠিন সাবজেক্ট কোনটা? সে ছোটখাটো একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস নিয়ে মাথাটা একটু ঝুকিয়ে হাজারটা প্রত্যাশাজড়িত কন্ঠে উত্তর দেবে “ফিজিক্স”। কেন ফিজিক্স? – কারন গতির সূত্র পারি কিন্তু অ্যাপ্লাই করতে পারি না – চলতড়িৎ পড়তে মজা লাগে কিন্তু পরীক্ষার কোশ্চেনই বুঝি না! (এ লিস্টের মান হতে পারে টেন্ডস টু ইনিফিনিটি……..) এরপর টেনেটুনে কোনমতে নবম-দশমের গন্ডি পার করে ইন্টারমিডিয়েট। সেটাও কোনমতে পার করতে পারলেই, মাফ চেয়েছি ফিজিক্সকে নমস্কার! কিন্তু এর পরেও কিছু কিছু প্রেমিক থাকে যারা ফিজিক্সকে মন প্রান দিয়ে ভালবাসে। যতটুকু সময় ফিজিক্স পড়ে মন প্রান একসাথে লাগিয়ে পড়ে। কিন্তু সেই ফিজিক্স নিয়ে অনার্স পড়বার প্রশ্ন এলে আগে এ চিন্তাই মাথায় আসে আদৌ ফিজিক্স পড়ে আমরা করব টা কি? বাংলাদেশে থেকে ফিজিক্সের ফিউচার কি? সঙ্গে চাচা, মামা, পাশের বাড়ীর আন্টির অপ্রত্যাশিত সুদূরপ্রসারী ভবিষদ্বানী তো আছেই। ফিজিক্সে সম্পর্কিত চমৎকার কিছু প্লাটফর্মের সংক্ষিপ্ত বর্ননা করার চেষ্টা করছি- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পড়তে আসা স্টূডেন্টদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ঠ হলো উচ্চতর গানিতিক দক্ষতা, উচ্চতর সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং যে কোন বিষয় সম্পর্কে সহজে বুঝতে পারার ক্ষমতা, যা তাদের পরবর্তী জীবনে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বের মস্ত বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে গিয়ে কেবল পড়াশুনাই করে নাই, শিক্ষকতাও করেছে। জগতের সবচেয়ে বড় গবেষণা সংস্থাগুলোতেও (CERN, NASA) কাজ করেছে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরাই। #প্রোগ্রামিং_করার_ক্ষেত্রে_এক্সট্রা_সুবিধা– প্রোগ্রামিং যাদের প্যাশন তারা যদি কোন কারনে প্রযুক্তিমূলক সাবজেক্ট (CSE, IT, ICT) সাবজেক্টগুলোতে চান্স না পাও তবে অনায়াসে ফিজিক্স নিয়ে পড়তে পারো। মোটামুটি ওয়েব ডেভলপিং ছাড়া অন্যান্য প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞান ষ্পষ্টভাবে কাজে লাগবে। যদি তুমি গেইম ইঞ্জিন তৈরি করতে চাও কিংবা গেইম ডেভলপিং, রোবটিক্স নিয়ে কাজ করতে চাও তবে পদার্থবিজ্ঞান অবশ্যই কাজে দেবে। পদার্থবিজ্ঞানের কিছু কিছু অ্যালগরিদম সরাসরি কাজে লাগবে প্রোগ্রামিং এ। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের অনেক বেশি বিশ্লেষনমূলক চিন্তা দক্ষতা (Analytical Thinking Skill) থাকে যা বলতে অপেক্ষা রাখে না যে কতটুকু প্রয়োজন হয় প্রোগ্রামারদের জন্য। তাছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে প্রোগ্রামিং নিয়ে আলাদা একটা আস্ত কোর্সই থাকে। #বৈজ্ঞানিক_কর্মকর্তা (Scientific Officer) পদার্থবিদদের জন্য বিশেষভাবে বাংলাদেশে স্বপ্নের দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশন (BAEC) এবং বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রন (BEARC)। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর পদার্থবিদরা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হচ্ছেন। তবে এ দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে যা দরকার হয় তা হলো SSC, HSC, স্নাতক (Honors) ও স্নাতকোত্তর (Masters) -এ প্রথম শ্রেনীর রেজাল্ট থাকতে হবে এবং “Nuclear Physics” এর উপরে থিসিস থাকতে হবে। কিন্তু যাদের প্রথম শ্রেনীর রেজাল্ট নেই তাদের কি হবে? তাদের জন্য রয়েছে আরো বেশি সেক্টর। এগুলোর মধ্যে- ১. বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষনা পরিষদ (BCSIR) ২. মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থা (SPARRSO) ৩. বাংলাদেশ পাট গবেষনা ইনস্টিটিউট (BJRI) ৪. বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট (BINA) উল্লেখযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে পদার্থবিদরা আবেদন করতে পারবেন। #এরোড্রম_অফিসার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর এরোড্রম অফিসার হিসেবে পদার্থবিদদের চাহিদা থাকে। #সহকারী_কার্ট্রোগ্রাফার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন করপোরেশন (BIWTC) এ দুটি প্রতিষ্ঠানে সহকারী কার্ট্রোর্গ্রাফার হিসেবে পদার্থবিদরা আবেদন করতে পারবেন। #ইলেক্ট্রিকাল_পাওয়ারপ্লান্ট_এ_এক্সিগিউটিভ_ট্রেইনি(Executive Trainee) বাংলাদেশে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন, সামিত পাওয়ার লিমিটেড, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, ম্যাক্স পাওয়ার সহ আরো অনেকগুলো পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে। এ পাওয়ার প্লান্টগুলোতে এক্সিগিউটিভ ট্রেইনি হিসেবে পদার্থবিদদের নিয়োগ দেওয়া হয়। #Google_এ_জবের_সুযোগ– Google এর মত স্বপ্নের সেক্টরটি সবারই প্রত্যাশার শীর্ষে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানটিতে ডাটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে পদার্থবিদদের নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে যার জন্য অবশ্যই প্রথম শ্রেনীর রেজাল্ট প্রয়োজন হয়। এছাড়া গুগল এ মার্কেটিং অ্যানালাইটিক ম্যানেজার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, অডিও সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং, টাচ সেনসর হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি পদে পদার্থবিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্রছাত্রীরা অগ্রাধিকার পায়। গুগলে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এর মাসিক স্যালারি ৯৩ হাজার মার্কিন ডলার। #NASA_তে_জবের_সুযোগ– The National Aeronautics and Space Administration । বলা বাহূল্য পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার অন্যতম উদ্দেশ্যই থাকে NASA তে জব পাওয়া। তবে এ জন্য নিঃসন্দেহে প্রয়োজন প্রথম শ্রেনীতে প্রথম ফলাফল। NASA তে কম্পিউটার সায়েন্স, অ্যাস্ট্রো-ফিজিক্স, ফিজিকাল সায়েন্টিস্ট, রিসার্চ কনসালট্যান্ট, কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট, সিনিওর সায়েন্টিস্ট হিসেবে পদার্থবিদদের চাহিদা ব্যাপক। #প্রোবেশনারি_অফিসারঃ (১ম শ্রেনীর অফিসার) পদার্থবিদরা বাংলাদেশের কিছু সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রোবেশনারী অফিসার হিসেবে জয়েন করতে পারবে। এসব জায়গাতে স্বল্প-বয়স এবং সম্প্রতি গ্রাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যারা খুব সম্প্রতি গ্রাজুয়েটেড হয়েছে তাদের জন্য এটি একটি প্লাস পয়েন্ট। #শিক্ষকতাঃ সবচেয়ে আরামদায়ক, জনপ্রিয় ও সহজ সেক্টর হলো শিক্ষকতা। বাংলাদেশে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকের চাহিদা অনেক বেশি। বাংলাদেশে প্রায় ৮২ টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৩১৫০ টি কলেজ, ১৮৫০০ টি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ২৭২৮ টি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পদার্থবিদদের জন্য সুবিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা থাকে। যাদের ধ্যান জ্ঞান শিক্ষকতা, তারা খুব সহজে এসব সেক্টরে নিজের স্থান গড়ে নেয়। #ফিজিক্স_কম্পিটিশন– তোমরা কি সবাই ফিজিক্স কন্টেস্টগুলোর সঙ্গে পরিচিত? ফিজিক্সের কন্টেস্টগুলোর মধ্যে “প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ফিজিক্স কম্পিটিশন” ও “ইউনিভার্সিটি ফিজিক্স কম্পিটিশন” অনেক জনপ্রিয়। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিকভাবে কম্পিটিশনটি অনুষ্ঠিত হয়। এ কম্পিটিশনটি শুধুমাত্র আন্ডারগ্রাজুয়েট ছাত্রছাত্রীদের জন্য। যেখানে দুটি সমস্যার সমাধান করতে দেওয়া হয়। ৪৮ ঘন্টাব্যাপি এ প্রোগ্রামটিতে কম্পিটিশন শেষে স্বর্ন পদক, রৌপ্য পদক এবং ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ী হিসেবে ফলাফল প্রদান করা হয়। বরাবরের মত বাংলাদেশ থেকেও পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহন করছে এবং পদক বিজয়ী হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের আরো যেসব স্থানে পদার্থবিদদের ব্যাপক চাহিদা থাকে – ১. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) ২. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) ৩. বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC) ৪. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এন্ড এক্সপ্লোরেশন কোঃ লিঃ (BAPEX) ৫. ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরন কর্তৃপক্ষ (DESA) ৬. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) ৭. বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ কর্পোরেশন (PETROBANGLA) ৮. বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (BSTI) ৯. ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরন কোঃ লিঃ (DESCO) সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসা ফ্যাকাল্টি এবং আর্টস ফ্যাকাল্টির ছাত্রছাত্রীরা যেসব সেক্টরে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারে, পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীরা সেই একই সেক্টরে একই পদের জন্য আবেদন করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে উল্টোটি কিন্তু ঘটেনা। #দেশের_বাইরে_স্কলারশীপঃ দেশের বাইরে পদার্থবিজ্ঞানের উপর স্কলারশীপ পাওয়া তুলনামূলক সহজ। চলতি বছরেও আমেরিকা, মালয়শিয়া, জাপান, জার্মান, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রায় ২৪৬৮ এর বেশী বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞানের উপর স্কলারশীপ অর্গানাইজ করেছে। সাধারনত এক্ষেত্রে তারা GRE, TOEFL এবং CGPA 3.00 প্রেফার করে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে যদি CGPA ভাল না হয় তখন GRE, TOEFL – এ নম্বরটা ভাল থাকতে হবে। পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়ে একদম হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পদার্থবিজ্ঞান রিলেটেড চাকরির ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত এবং এটি অন্যান্য সাবজেক্ট থেকে অনেক এগিয়ে। সবার আগে প্রয়োজন একটা ভাল রেজাল্ট। শুধুমাত্র স্যার/ম্যামদের দেওয়া নোটগুলো মুখস্থ না করে বিস্তৃতভাবে পদার্থবিজ্ঞান আয়ত্ব করার চেষ্টা করতে হবে। পদার্থবিজ্ঞান পড়ে তোমাদের জীবন আরো আনন্দঘন করে তুলতে এবং বিভিন্ন কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে বিভিন্ন Extra Curricular Activities এর দিকে নজর দেবে। পড়াশুনা, রেজাল্ট, প্রত্যাশা সব মিলিয়ে একজন পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র/ছাত্রী হয়ে উঠতে পারে বিশ্বমানের। 😍 Collected

Saturday, February 19, 2022

পদার্থবিজ্ঞানের জনক

পদার্থবিজ্ঞান-এর জনক কে? পদার্থবিজ্ঞান হচ্ছে প্রকৃতি বিজ্ঞানের সেই শাখা যে শাখায় পদার্থ ও শক্তি,এদের ধর্ম ও প্রকৃতি,এদের পারস্পারিক সম্পর্ক ও রুপান্তর এবং এদের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়। ... আলবার্ট আইনস্টাইন,স্যার আইজ্যাক নিউটন এবং গ্যালিলিও এদেরকে সম্মিলিতভাবে পদার্থবিজ্ঞানের জনক( fathers of physics) বলা হয়।

বুধ গ্রহের বিচ্যুতির ক্ষেত্রে কি নিউটনের তত্ত্ব ভুল?

বুধ গ্রহের ১০০ বছর পর বিচ্যুতি হয়। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র এটা ব্যাখ্যা করতে পারে না। বিচ্যুতিটা কেন হয়? তবে কি নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ভুল? এমন...